লাইক আ বস // অভীক দত্ত

আমাদের মফস্বলে হাবিব কিংবা বড় কোনও সেলুন নেই। যারা একটু বেশি খরচ করেছে, তারা ওই জেন্টস বিউটি পার্লার টাইপ একটা কিছু খাড়া করার চেষ্টা করে। কিন্তু যত ভিড়, সেটা নাপিতদার কাছেই হয়। নাপিতদা আমাদের অঞ্চলের একজন বিখ্যাত নাপিত। তার দোকান বিরাট স্টাইলিস্ট কিছু না, কিন্তু তাতেও বেজায় ভিড় হয়। আর ঐ নাপিতদার কাছে শেখার জন্যই প্রচুর ভিড়-টিড়ও হয়। নাপিতদার দোকান বাজারের মোটামুটি চণ্ডীমণ্ডপ টাইপ। এখানে ধোনি থেকে মেসি, ওবামা থেকে পানামা সমস্ত আলোচনাই চলে।

বাইরে যাব কদিনের জন্য। চুল ছাঁটানোর দরকার পড়েছিল, সকাল সকাল গিয়ে লাইন দিলাম নাপিতদার দোকানে। এখানে কোনও রেট চার্ট টাইপের কিছু নেই। নাপিতদা যে টাকা বলে, সেটাই রেট। যাকগে, লম্বা বেঞ্চিতে বসে দেশ-বিদেশের আলোচনা শুনছি। একসময় এক সিড়িঙ্গে টাইপ লোক দোকানে এল। খানিকক্ষণ ফুড়ুত ফুড়ুত করে বিড়ি টেনে শুরু করল তার বাতেলা। সবাই সব আলোচনা থামিয়ে তার বাতেলাই শুনতে লাগল।

বিষয়বস্তু পশ্চিমবঙ্গে গুণীর কোনও কদরই নেই। উনি তিন বছর ধরে দিল্লিতে আছেন, সেই নিয়েই বলে যাচ্ছিলেন। “বোঝলেন দাদা, পশ্চিমবঙ্গ কোনও জায়গাই না। এখানে যখন টিউশন পড়াতাম, পঞ্চাশ টাকা মাইনে দিতে সবার প্যান্ট হলুদ হইয়া যাইত। অহন তিন বছর হইল দিল্লিতে থাকি। এক এক হপ্তায় হাজার টাকা পাই। ওখানে গুণীর মান দিতে জানে।”

মিনিট পনেরো এইসব শুনে নাপিতদা তাকে আগে বসিয়ে দিল। আমরাও আপত্তি করলাম না। লোকটার বাতেলা দেবার মধ্যে একটা হিপনোটাইজ করার মতো ক্ষমতা ছিল। এদিকে কাঁচি চলছে, অন্যদিকে দাদার বাতেলা। এখানে কেউ সম্মান দেয় না, গুণী টাকা পায় না, এইসব বলে চুল কাটা শেষ হল। পরের লোক চেয়ারে বসার জন্য এগোচ্ছে আমাদের বাতেলাদা বলল, “কত টাকা?”
নাপিতদা আমাদের দিকে চোখ টিপে বলল, “একশ।”
আমাদেরও মুখ হাঁ (তিরিশ টাকায় চুল দাড়ি কমপ্লিটের রেট এখানে) বাতেলাদারও। বলে, “এত টাকা?”
নাপিতদা নির্বিকার মুখে বলল, “হ্যাঁ।”
বাতেলাদা বেজারমুখে একশটাকা দিয়ে গেল। উনি বেরোতেই নাপিতদা আমাদের দিকে তাকিয়ে এক গাল হেসে বলল, “গুণীর মান দিলেন।”

একেই মেমের ভাষায় বলে “লাইক আ বস!”

অভীক দত্ত

https://www.facebook.com/abhik.dutta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *