প্রাডা // পিয়ালী চক্রবর্ত্তী

আমার বর মালয়েশিয়া গেছিল অফিসের কাজে। বললাম, “একখানা ব্যাগ এনো, বাইরে নিয়ে বেরোনোর মতো ব্যাগের বড় অভাব।” তা সে একটা ব্যাগ আনল, তার ওপর লেখা ‘মিলানো প্রাডা’। আমায় বলল, “দারুণ ব্র‍্যান্ড বুঝলে।” আমাদের এক প্রমীলা গ্যাং আছে হোয়াটস আপে। সেখানে আমি ছবি পোস্টালাম, অমনি সকলে ‘ওয়াও! ওয়াও! প্রাডা! পিয়ালী তোর তো এখন স্ট্যাটাস হাই’ করতে লাগল। আমার আবার ব্র‍্যান্ডের ব্যাপারে জ্ঞানগম্যি খুবি সীমিত। ব্যাগের মধ্যে ব্যাগিট আর গুচির নাম জানি কারণ মলে গেলে ওগুলোর প্রাইস ট্যাগ দেখি। তা বন্ধুদের উত্তেজনার কারণ দেখে বুঝলাম সত্যি ব্র‍্যান্ডটা হল ইয়ে। আমিও বিশাল ভাও খেতে লাগলাম।

যাকগে, প্রাডা নিয়ে এদিক ওদিক ঘুরছি। মাস দুয়েকের মধ্যে মিঠি হল, আর বিশেষ বেরোনো হয় না। বাড়িতে থাকতে থাকতেই দেখি ব্যাগের গা থেকে ছাল, চামড়া উঠতে শুরু করেছে। কেস কী? তারপর কলকাতা গিয়ে একদিন ব্যাগ খুলে কী বের করতে গেছি, একখানা জোরে গোঁত্তা খেলুম। দেখি ব্যাগের ভিতরের কাপড় ফুঁড়ে দুখানা স্প্রিং বেরিয়ে আছে। ইস কী জালি ব্যাগ রে! আহারে! আমার বর কত ভালবেসে এনেছে, ওকে এমন ঠকাল? কুনাল যেই কলকাতা এল, বললাম, “জানো প্রাডার ব্যাগটা তোমায় ঠকিয়েছে, ওটা ডুপ্লিকেট।” কুনাল আকাশ-বাতাস দেখে বলল, “ইয়ে, মানে আমি তো ডুপ্লিকেট প্রাডাই এনেছিলাম।”

মানে???

কুনাল অমনি উত্তেজিত হয়ে বলল, “আসল প্রাডার দাম জানো? পার্স পঁয়ত্রিশ হাজার, ব্যাগ একলাখ থেকে শুরু। আমি? আমি আনব? ক্ষেপেছ?”
রাগের মাথায় বরকে ‘দাদা’ বলার ইচ্ছে হল — “এই যে দাদা, কে বলেছে আনতে তোমায় প্রাডা?”

 

হায়দ্রাবাদে আসার পর একদিন সুলগ্না এল, আর একেবারে মোক্ষম প্রশ্ন, “এই তোর প্রাডার ব্যাগটা ইউজ করছিস?” আমি বললাম, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, দ্যাখ, কী সুন্দর দেখতে হয়েছে।”
কদিন আগে বেরোচ্ছিলাম। কুনাল গম্ভীর মুখ করে বলল, “ওই ব্যাগটা আর নিয়ে বেরিও না, আমি আমাজন থেকে ব্যাগ অর্ডার করে দিচ্ছি, ভালো ডিসকাউন্ট চলছে।”

আজ একখানা লাল ব্যাগ এল বাড়িতে। আমি তার ব্র‍্যান্ড দেখিনি, দেখতেও চাই না। আমি আর কোনও কিছুর ব্র‍্যান্ড দেখব না পণ করেছি। প্রাডা যে দাগা দিল মনে। কুনাল একটা প্যাঁচা খোদাই করা জ্যাকেট এনেছিল মালয়েশিয়া থেকে। সেটার ব্র‍্যান্ডটা ভাগ্যিস দেখিনি (এর আগেও প্যাঁচা মার্কা কানের দুল দিয়েছে, কী জানি খালি প্যাঁচা কেনে কেন? বাইরে গেলে আমার মুখটা বারবার মনে পড়ে মনে হয়।)

তবে মানুষ তো গল্পের উপাদান জীবন থেকেই নেয়, আমিও আজ একটা অনুগল্পের উপাদান পেলাম।

একজন একটা কুকুরছানা দিয়ে গেল। বলল জার্মান শেফার্ড। পনেরো দিন যেতে না যেতেই তুমি বুঝলে সেটা বিশুদ্ধ নেড়ি। একমাস যেতে না যেতেই বুঝলে সেটা বিশুদ্ধ ঘিয়ে ভাজা নেড়ি। ছাল চামড়া গন। গন গনাগন, নেভার রিটার্ন্ড।

RIP প্রাডা!

পিয়ালী চক্রবর্ত্তী

https://web.facebook.com/chakraborty.piyali

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *