পায়চারি // রোহণ কুদ্দুস

এক-একদিন ক্লায়েন্ট মিটিং খুকখুক হাসি হয়ে যায়। হাসি চাপতে না পারার বদাভ্যাস আমার চিরদিনের। একবার ক্লাস ফাইভে আসরের জামাতের মধ্যে আমার পাশে দাঁড়িয়ে খেরকানি বলে দিয়েছিল ‘পায়চারি’। আমি বহু চেষ্টা করেও হাসি না চাপতে পেরে খুকখুক হেসে ফেলেছিলাম। আমার থেকে আক্তার, তার থেকে সাব্বির, তার পাশে রনি – আস্তে আস্তে দেখা গেল মাঝের চার-পাঁচটা সারি খুকখুক হাসছে। শেষে আমাদের সুপারিন্টেন্ডেন্ট হাসেম স্যর ছড়ি এনে গুছিয়ে দিয়েছিলেন সবকটাকে। কিন্তু পিঠে ছড়ির ঘা খেয়েও আমার স্বভাবের কোনও পরিবর্তন হয়নি। স্থান-কাল-পাত্র নির্বিশেষে খুকখুক হেসেই ফেলি।

এই যেমন টেমপ্লেটের ব্যাপারটা। ই-ব্যাঙ্কিং থেকে আপনি হরবখত পেমেন্ট করে থাকেন। হয়তো একই জনকে একই রকম ডিটেলস-এ টাকা পাঠান। যেমন ধরুন, মাইনে পেয়ে মাসের প্রথমে বাবাকে টাকা পাঠাচ্ছেন। তা প্রতিবার নতুন করে ফর্ম না ভরে আপনি একটা টেমপ্লেট বানিয়ে ফেলতে পারেন। প্রতি মাসে ঐ টেমপ্লেট খুলে দরকারে দু-একটা ছোটোখাটো জিনিস বদলে (যেমন এ্যামাউন্ট বা রিমার্কস) সেন্ড বাটনটা টিপে দিলেন। ব্যস! সাধারণত আপনার বানানো টেমপ্লেট আপনার জয়েন্ট এ্যাকাউন্ট হোল্ডারও দেখতে পাবেন। আমাদের ই-ব্যাঙ্কিং প্রোডাক্টে তেমনটাই আছে। আপনি চাইলে সেটাকে প্রাইভেট টেমপ্লেট হিসাবে চিহ্নিত করতে পারেন। তখন সেটা আপনি ছাড়া আর কেউ দেখতে পাবেন না। ব্যাপারটা দেখে আমাদের ক্লায়েন্ট মিখাল ঘন ঘন মাথা নাড়তে আরম্ভ করল – “এটা চলবে না। সব টেমপ্লেট বাই ডিফল্ট প্রাইভেট হতে হবে।” কেন চলবে না? মিখাল তার নিজস্ব ইংরাজিতে বোঝাতে আরম্ভ করল – “ধরো তুমি তোমার মিস্ট্রেসকে পেমেন্ট করার জন্যে একটা টেমপ্লেট বানালে। তারপর সেটাকে প্রাইভেট মার্ক করতে ভুলে গেলে। আর ধরো তোমার বউ তোমার জয়েন্ট এ্যাকাউন্ট হোল্ডার। সে তোমার সব টেমপ্লেট দেখতে পেল। তোমাদের কোনও আইডিয়া আছে এর থেকে কী কী হতে পারে?” ইয়েতি বেশ গম্ভীর মুখে জিজ্ঞাসা করল – “আর ধরো যদি তোমার মিস্ট্রেস তোমার জয়েন্ট এ্যাকাউন্ট হোল্ডার হয়? সে কি তোমার বউকে পেমেন্ট করার জন্যে বানানো টেমপ্লেট দেখে রেগে যেতে পারে?” মিখাল মাথা নাড়ল – “ডিপেন্ডস। সে খুব পজেসিভ হলে আপত্তি করতেও পারে।” লামা এবার ফুট কাটল – “কিন্তু কেউ নিজের বউকে পেমেন্ট করবে কেন?” তারপর মিখালের দিকে ঘুরে বলল – “তোমাদের দেশে বউয়ের সঙ্গে সেক্স করাটা ফ্রি, রাইট?” মিখাল বেচারা হতভম্ব হয়ে আমার দিকে তাকাল। সাধারণত এই দুজনের থেকে সে আমার ওপর একটু বেশিই ভরসা করে। মিখালের প্রথম মন্তব্য শুনেই যথেষ্ট হাসি পাচ্ছিল। শেষে লামার কথায় থাকতে পারলাম না। খুকখুক করে হেসেই ফেললাম। মিখাল একটু আহত হল, সে আমার থেকে ম্যাচিওরড কিছু আশা করেছিল। তাই ব্যথিত গলায় বলল – “হোয়াত দ্য ফানি।” খুকখুক হাসি ততক্ষণে খ্যাঁকখ্যাঁকে পরিণত হয়েছে। কোনও রকমে হাত নাড়লাম। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে বললাম – “পায়চারি।” মিটিং রুম থেকে বেরোতে বেরোতে বললাম – “আমি দু মিনিট পায়চারি করে আসি। তোমরা ততক্ষণে তোমাদের বিবাহ-বহির্ভূত পেমেন্ট সংক্রান্ত সমস্যাগুলো আলোচনা করে নাও।”

তারপর ক্যাফেটেরিয়াতে বসেও বেদম হেসেছি। পেত্রা জুসের গ্লাস এগিয়ে দিতে দিতে জিজ্ঞাসা করল – “গুড ডে ফর ওয়ার্ক?” আমি একগাল হেসে বললাম – “ক্যানট গেট এনি বেটার।”

রোহণ কুদ্দুস

https://www.facebook.com/rohonkuddus

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *