এচ এম টি // ঈশিতা ভাদুড়ী

আগে এচ এম টি কোম্পানির ঘড়ি ব্যবহার করতো সবাই। আমারও একটা ছিল। বেশ বড়সড় গোদা দেখতে। তখন টাইটান কোম্পানির জন্ম হয়নি।

আমার ওই এচ এম টি ঘড়িটা দেখতে মোটেই সুশ্রী ছিল না। কিন্তু কেন জানি না একটি শিশুর খুব আকর্ষণ ছিল আমার ওই এচ এম টি ঘড়িটার প্রতি। ডায়ালের সাইজের জন্যেই সম্ভবত। সে একটি চামচ নিয়ে আমার স্টিলের ব্যান্ডটি খোলার খুব চেষ্টা করত। শেষমেষ ক্লান্ত হয়ে আমার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ত। আমার পরবর্তী কাজ ছিল ঘড়িটা খুলে সেই শিশুটির হাতে পরিয়ে দেওয়া। তার দিদিমা আমাকে বকাবকি করতেন। বলতেন “এরকম আহ্লাদ দিও না।” বাচ্চাদের আহ্লাদ না দিলে কাকে দেওয়া হবে? অতএব…

সেই শিশু ধীরে ধীরে বেড়ে উঠল। বালিকাবেলায় আবিষ্কারের আনন্দে কত কী করত তখন। একদিন রুটি করল, সেদিন আমার জন্যেও করল একটি ছোট রুটি। আমি কে ছিলাম তার? কেউ কি?

বালিকাটি বেড়ে উঠল ধীরে ধীরে। সরস্বতী পুজোর সকালে বাসন্তী রঙের শাড়ী পরে যে কিশোরী, দুচোখে তার উঁকি মারল আমারই পনেরো বছর বয়স। লিখলাম –

”সরষের তেলে আধ চামচ গুঁড়ো হলুদ আজ বসন্ত পঞ্চমী

হলুদ বাসন্তী শাড়ী
দুই বেণী কিশোরীবেলা
মনে যে পড়ে তোকে দেখে।
ইস্কুলে সারি সারি খিচুড়ী-কলাপাতা
দুগাল টোপা কুলে সরস্বত্যৈ নমঃ …
মন্ডপে মন্ডপে কিশোরী দুই চোখ স্বপ্ন
তিলকূট সারাটা সকাল কদমা আর আখে…
মনে যে পড়ে
খাগের কলমে সরস্বত্যৈ নমঃ
গোলাপছড়ি কিশোরীবেলা তোর মুখে…”

কিশোরীটি আর কিশোরী নেই , প্রাপ্তবয়স্কের ভিড়ে হারিয়ে গিয়েছে সে। এই প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটিকে চিনি না আমি। সে আসলে কেউ নয় আমার।

আমি তো খুঁজি সেই শিশুটি সেই বালিকাটি সেই কিশোরীটিকে। সেই এচ এম-টি ঘড়িটাও যে কোথায় গেল!

ঈশিতা ভাদুড়ী

https://web.facebook.com/ishita.bhaduri.9

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *