ঈশ্বরবাবুর ব্যাকরণ বই // প্রকল্প ভট্টাচার্য

প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র।

কিন্তু তাঁর কি আর একটুও নিরিবিলিতে ঘোরবার জো আছে! এই ভোররাতেও যারা কাজে বেরিয়েছে, তারা তাঁকে দেখে ছুটে আসছে প্রণাম জানাতে। এসব তাঁর পছন্দ নয়, কিন্তু কে শোনে তাঁর কথা!

কোনওমতে ভিড় এড়িয়ে পা চালিয়ে ফিরে আসছিলেন। শিশুপাঠ্য ব্যাকরণ বই লিখতে হবে, সহজ অথচ সরস একটা নাম পাচ্ছেন না। হঠাত কে যেন ডাকল, “ঠাকুর…”

বিরক্ত হয়ে ফিরে তাকালেন। ওটা তাঁর বাবার নাম, কেন আবার ওই সম্বোধন…

দেখলেন এক মহিলা, তাঁর মেয়েকে নিয়ে এসেছেন। ওঁকে ফিরতে দেখে মেয়েকে বললেন, “পায়ে হাত দিয়ে নমো করো।”
– না না থাক থাক, ওসব আবার কী! কী নাম তোমার খুকি?
মেয়েটার হাতে একটুকরো আখ, মুখে আখের রস লেগে। ওই নিয়েই মিষ্টি স্বরে বলল, “মঞ্জরী।”
– তুমি ইস্কুলে যাও? মেয়েদের জন্যে যে ইস্কুল?
– না।
– কেন, ভাল লাগে না?

মেয়েটা মুখ নীচু করে মাথা নাড়ল। ভাল লাগে না তার।

ঈশ্বরচন্দ্র তার সরল, অকপট কথায় মজা পেলেন, বললেন, “তাহলে কী ভালো লাগে তোমার?”
– আখ খেতে। কী মিষ্টি আর রসালো!

খুকির মা অপ্রস্তুত, “ঠাকুর, কিছু মনে করবেন না, ও একটু হাঁদা… অ্যাই, ও রকম বলতে আছে? জানিস না, যে…”

ঈশ্বরবাবুর কিন্তু আর কোনওদিকে মন নেই, তিনি তাঁর বইয়ের নাম পেয়ে গেছেন। পা চালিয়ে ঘরে ফিরলেন। সোজা টেবিলে বসে পাণ্ডুলিপির ওপর বড় বড় করে লিখলেন, ‘আখ খান মঞ্জরী’।

প্রকল্প ভট্টাচার্য

https://web.facebook.com/prakalpa.bhattacharya

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *